আমাদের কথা

রূপসী বাংলা এন্টারটেইনমেন্ট। কেউ 'এন্টারটেইনমেন্ট' শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ জানতে চাইলে আমরা একটুও না ভেবে 'বিনোদন' শব্দটি বলে দিই। আমরা অবশ্যই ভুল বলি না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলা বিনোদন শব্দটির চাইতে ইংরেজি 'এন্টারটেইনমেন্ট' শব্দটির অর্থ আরেকটু ব্যাপক। এন্টারটেইনমেন্ট মানে শুধুই আনন্দ দান নয়, গ্র্যাফিটিকেশন বা পরিতৃপ্তিও বটে। মানে হলো, কেউ আপনাকে বিনোদিত করার নামে এমন সব উপাদান আপনার সামনে পরিবেশন করল যার গুণগত মান এতই নিচু স্তরে যে, উপভোগের বদলে আপনার বিরক্তির উদ্রেক করল। এটিকে আমরা 'এন্টারটেইনমেন্ট' বা বিনোদন হিসেবে আখ্যায়িত করতে প্রস্তুত নই।

তাহলে দেখা যাচ্ছে এখানে 'উপভোগ্য' বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। এবং এই উপভোগটাই বাংলা এন্টারটেইনমেন্টের দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমেরিকায় বাংলাদেশের অভিবাসীদের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের কাছেও বাংলার রূপ, রস, গন্ধ, সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, স্বাদ, এবং রঙ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৮ সালে সম্পাদক শাহ জে. চৌধুরী গড়ে তুললেন রূপসী বাংলা পত্রিকাটি।

শাহ জে চৌধুরী ভাবলেন মানুষের জীবন তো একটাই। কিন্তু সে জীবনকে জীবনের প্রয়োজনে আবার ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিই আমরা। যেমন শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, বিবাহিত জীবন ইত্যাদি। এসব ছোট ছোট ভাগ যখন নিজের প্রান্ত শেষে পরের অংশে গিয়ে সংযোজিত হতে পারে তখনই জীবন সফল মনে হয়। এ সফলতা দুটা বিষয় দাবী করে। একটা অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নয়। অপরটা আত্মতৃপ্তি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অর্থনৈতিক 'নিশ্চয়তা'কে 'সমৃদ্ধি' ভেবে অর্থর পেছনে ছুটতে ছুটতে 'আত্মতৃপ্তি' উপেক্ষিত হয়ে যায়। তখন সে মানুষটি অসুখি যন্ত্রবিশেষ হয়ে ওঠেন।

ওপরের ও ভাবনাটি রূপসী বাংলা সম্পাদক শাহ্‌ জে চৌধুরীকে খুব নাড়া দিত। বাংলা সাহিত্য পড়ে ইতিহাসের শিক্ষক হতে তিনি রাজি নন। জীববিজ্ঞানের ডিগ্রি নিয়ে মোটা বেতনে আবহাওয়া অফিসে চাকরি পেলেই তিনি সন্তুষ্ট নন। প্রথাগতভাবে সমৃদ্ধির সঙ্গে আয়েশ জুড়ে দিয়ে জীবনকে উপভোগ করতে তৈরি তার জীবনের ছোট ছোট অংশগুলোর সঙ্গে মূল জীবনের সঙ্গে সংযোগ থাকতে হবে। থাকতে হবে আত্মতৃপ্তি।

ওই আত্মতৃপ্তির তাগিদ থেকেই গড়ে উঠলেও আত্মার তৃষ্ণা সেখানেই থেমে থাকল না। তৃষ্ণা আরও গভীর হলো। গড়ে উঠল ইংরেজি পত্রিকা 'হিন্দুস্তান সুরখিয়া।' কিন্তু না, তৃপ্ত নয় এ মন। শুধু বর্ণমালায় যেন বলা হয়ে ওঠে না সবটা। বলবার আরও অনেক কিছু আছে, আছে ভঙ্গী। গড়ে উঠল 'বাংলা চ্যানেল।' ‘বাংলা চ্যানেল’ অনাড়ম্বরে স্বল্প আলোতে সত্যটা নিয়ে, সুন্দরের হাত ধরে, বাংলার সংস্কৃতি পাথেয় করে এসে দাঁড়িয়েছে দর্শকের বসার ঘরের দরজায়। সঙ্গে আছে প্রাণবন্ত এক কর্মীবাহিনী, যারা আপনার তথ্য অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন।